
গত নভেম্বর মাসে কপ-৩০ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সম্মেলনে, বিভিন্ন দেশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর নতুন পদক্ষেপগুলোয় একমত হতে পারেনি।

২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট (বিসিসিটিএ) থেকে করা বরাদ্দের ৫৪ শতাংশেই অনিয়ম পাওয়া গেছে। এই সময়ে ৮৯১টি প্রকল্পে দুর্নীতির পরিমাণ আনুমানিক ২৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ১১ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার জন্য প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়। এ তহবিল এখন বাস্তব। বাংলাদেশড়সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ তহবিল থেকে অর্থ সহায়তা পাচ্ছে। কিন্তু এ সহায়তার ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে এর পরিমাণ নিয়েও।

বিশ্বের ময়দানে জলবায়ু এখন বড় খেলা। ক্ষমতাধর দেশগুলো ঋণখেলাপি। আর এই ঋণ আদায় করে না নিলে কখনোই মিলবে না। জুলাই বিপ্লবের সাহস নিয়ে আমাদের বিশ্বের ময়দানে নেতৃত্ব দিতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে–নিরাপত্তা অর্জনের নামে পৃথিবীর নিরাপত্তা বিসর্জন দেওয়া চলে না। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা আজ মানবজাতির যৌথ নিরাপত্তার প্রশ্ন, অস্তিত্বের প্রশ্ন। সামরিক নির্গমন আড়ালে রেখে সেই লড়াই সফল হবে না–কোনওভাবেই না।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। চলতি বছর ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ থার্টি জলবায়ু সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, জলবায়ু সমস্যা সমাধানের একটি বিশাল হাতিয়ারকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। আর সেই হাতিয়ারটি হলো–মাটি!

ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ থার্টি সম্মেলনে পরিবেশকর্মীরা বন ধ্বংস ও আদিবাসী অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের কথা উপেক্ষিত হয়।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এবং কার্বন ব্রিফ-এর এক যৌথ প্রতিবেদন এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। জাতিসংঘে জমা দেওয়া অপ্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রতিশ্রুত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিলের একটি বড় অংশ তেল-সমৃদ্ধ দেশগুলোর কাছে।

বাঁধ নির্মাণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের উন্নতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজনমূলক উদ্যোগ নিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেজন্য বাংলাদেশকে টিকে থাকার থাকার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রায়ই তুলে ধরা হয়।

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিষয়ে কপ ২৮ -এর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা এবারের লক্ষ্যের একটি অংশ।